Runner Automobiles এবং BYD – এর যৌথ উদ্যোগে দেশে EV উৎপাদনের সম্ভাবনা

Runner Automobiles এবং BYD-এর যৌথ উদ্যোগে দেশে EV উৎপাদনের সম্ভাবনা বাংলাদেশের অটোমোটিভ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
দেশীয় প্রতিষ্ঠান Runner Automobiles চীনের শীর্ষ ইলেকট্রিক ভেহিকল নির্মাতা BYD-এর সঙ্গে দেশে যানবাহন উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাইয়ে কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ উদ্যোগ বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে চীনে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে BYD-এর ইলেকট্রিক ও নন-ইলেকট্রিক উভয় ধরনের যানবাহন স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। একটি পূর্ণাঙ্গ feasibility study পরিচালনার মাধ্যমে বিনিয়োগের পরিমাণ, অর্থায়নের উৎস, কারখানা স্থাপন, বাস্তবায়ন সময়সূচি এবং অংশীদারিত্ব কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। জানা গেছে, এ সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা শিগগিরই চূড়ান্ত হতে পারে।এই উদ্যোগটি এমন সময়ে এসেছে, যখন বাংলাদেশে আমদানিকৃত যানবাহনের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপিত থাকায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত যানবাহন তুলনামূলকভাবে বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে। বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে দেশে উৎপাদিত ইলেকট্রিক বা হাইব্রিড যানবাহনের ওপর কর ও শুল্কের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। অন্যদিকে আমদানিকৃত ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে শুল্কের হার অনেক বেশি।
সরকার ইতোমধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট যানবাহনের ৩০ শতাংশকে ইলেকট্রিক ভেহিকলে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যে ব্যাটারি প্রযুক্তি ও স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে বিভিন্ন প্রণোদনা চালু রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই যৌথ উদ্যোগকে সম্ভাবনাময় একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।Runner Automobiles এরই মধ্যে মাগুরা ও ময়মনসিংহে জমি অধিগ্রহণ করেছে, যেখানে ভবিষ্যতে উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পূর্ব অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে তিন চাকার যানবাহন উৎপাদন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বিপণন কার্যক্রম। এসব অভিজ্ঞতা সম্ভাব্য উৎপাদন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে।অন্যদিকে BYD বিশ্বব্যাপী ইলেকট্রিক যানবাহন ও ব্যাটারি প্রযুক্তিতে অগ্রগণ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে এশিয়া, ইউরোপ এবং ল্যাটিন আমেরিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে। ফলে এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।উদ্যোগটির ঘোষণার পর পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে Runner-এর শেয়ারমূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে প্রকল্পটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় বিনিয়োগের পরিমাণ, উৎপাদন সক্ষমতা, বাজার গ্রহণযোগ্যতা এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতির মতো বিষয়গুলো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি। বিশেষ করে চার্জিং অবকাঠামো এবং বাজার প্রস্তুতি ভবিষ্যৎ সাফল্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।সার্বিকভাবে, এই যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে ইলেকট্রিক যানবাহন উৎপাদনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে এবং দেশের অটোমোটিভ খাতে একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তনের সূচনা ঘটতে পারে।
Related Articles

Honda WN7- Electric Motorcycle Future কি বদলে দিচ্ছে?

HONDA আনলো তাদের প্রথম ইলেকট্রনিক মোটরসাইকেল WN7!

